.
Showing posts with label life tips. Show all posts
Showing posts with label life tips. Show all posts

ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার বিষয়ে জানুন

ফুলকপি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সবজিগুলোর একটি যা ক্রুসিফেরি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এতে পানির পরিমাণ থাকে ৮৫% এবং খুব অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে।  কিন্তু এতে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্য ফাইটোকেমিক্যাল ও থাকে। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। এই বহুমুখী গুণ সম্পন্ন সবজিটি কাঁচা, সেদ্ধ বা রান্না করেও খাওয়া যায়। চলুন জেনে নিই ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার বিষয়ে।
১। হৃদ-স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে
ফুলকপিতে সালফারের যৌগ সালফোরাফেন থাকে যা ব্লাড প্রেশারের উন্নতিতে সাহায্য করে। গবেষণা মতে সালফোরাফেন ডিএনএ এর মিথাইলেশনের সাথে সম্পর্কিত যা কোষের স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং জিনের সঠিক প্রকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, বিশেষ করে ধমনীর ভেতরের প্রাচীরের। সালফোরাফেন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস করতে পারে এবং টিউমারের বৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। অন্য এক গবেষণায় জানা যায় যে, ফুলকপির সাথে হলুদ যোগ করে গ্রহণ করলে প্রোস্টেট ক্যান্সার নিরাময়ে ও প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।  
২। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
ফুলকপিতে আরেকটি উপকারী যৌগ কোলাইন থাকে। কোলাইন একটি বি ভিটামিন। এটি মস্তিষ্কের উন্নয়নে সাহায্য করে। প্রেগনেন্সির সময়ে ফুলকপি গ্রহণ করলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে। গবেষণায় নির্দেশ করা হয়েছে যে, জ্ঞানীয় কাজের, শিক্ষার এবং স্মৃতির উন্নয়নে সাহায্য করে কোলাইন।  

৩। শরীরকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে
ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীর পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে গ্লুকোসাইনোলেটস থাকে যা এনজাইমকে সক্রিয় করে এবং ডিটক্স হতে সাহায্য করে।

৪। প্রদাহ কমায়
ফুলকপিতে ইন্ডোল ৩ কার্বিনোল বা I3C থাকে যা একটি অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান। এটি শক্তিশালী ইনফ্লামেটরি রিঅ্যাকশন প্রতিরোধ করে।

৫। হজমের উন্নতি ঘটায়
যেহেতু ফুলকপি ফাইবারের গুরুত্বপূর্ণ উৎস সেহেতু এটি হজমের উন্নতিতে সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ডস হেলদিয়েস্ট ফুডস এর মতে, ফুলকপি পাকস্থলীর প্রাচীরের সুরক্ষায় সাহায্য করে। ফুলকপির সালফোরাফেন পাকস্থলীর হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে এবং পাকস্থলীর প্রাচীরে এর আবদ্ধ হওয়াকে প্রতিহত করে।

৬। ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ
ফুলকপিতে ভিটামিন সি, বিটাক্যারোটিন, কায়েম্ফেরোল, কোয়ারসেটিন, রুটিন, সিনামিক এসিড সহ আরো অনেক উপাদান থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতির হাত থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। এগুলো বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করে এবং টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি হওয়া প্রতিহত করে।
আপেল কাটার পর কাটা অংশের বর্ণ বিবর্ণ বা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার

আপেল কাটার পর কাটা অংশের বর্ণ বিবর্ণ বা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার



আপনার বাসায় মেহমান আসার কথা তাই আপনি মেহমানের জন্য বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করছেণ তারমধ্যে কিছু আপেল কেটে প্লেটে সাজিয়ে রাখলেন কিন্তু যখন মেহমানকে দিতে যাবেন তখন দেখলেন আপেলের বর্ণ কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে আপেল কাটার পর কেন তা বিবর্ণ বা ফ্যাকাসে হয়ে যায় তার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে

ফ্যাকাসে বা বিবর্ণ হওয়ার কারণ

আপেল কাটার পর আপেল থেকে Tyrosinase নামক এক ধরণের এনজাইম নি:সৃত হয় যা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে পলিফেনল তৈরি করে ফলে আপেলের কাটা অংশ ফ্যাকাসে বা বিবর্ণ হয়ে যায় এটা হচ্ছে উদ্ভিদকূলের একটি সেলফ ডিফেন্স সিস্টেম প্রায় সবধরনের উদ্ভিদের মধ্যেই এ ধরণের এনজাইম থাকে যা নি:সৃত করে পোকামাকড় বা কীট পতঙ্গের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করে এবং তা খাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে

প্রতিকার

আপেল থেকে নি:সৃত এনজাইম তখনই কাঝ করে যখন পিএইচ লেবেল ৫ - ৭ এর মধ্যে থাকে পিএইচ লেবেল ৩ এর নীচে থাকলে নি:সৃত এনজাইম ইনএকটিভ থাকে লেবুর রসের পিএইচ লেবেল হল ২ বা তার নীচে এবং তা এসিডিয় লেবুর রস এই পিএইচ লেভেলকে ৩ এর নীচে রাখতে সাহয্য করে ফলে নি:সৃত এনজাইম বায়ুর অক্সিজেন এর সাথে বিক্রিয়া করতে পারেনা ফলে আপেল দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকে এছাড়ার ভিটামিন সি (এসকরবিক এসিড) ও নি:সৃত এনাজাইমের আগে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে ফলে যতক্ষন এসকরবিক এসিড থাকে ততক্ষণ পযর্ন্ত আপেলের বর্ণের কোণ পরিবর্তন হয় না

করণীয়

  • সাধারণত লাল আপেল খুব দ্রুত কাটার পর বিবর্ণ হয়ে যায় ও হালকার সোনালি বর্ণের আপেল মধ্যম সময়ের মধ্যে এবং হালকা ফ্যাকাসে সবুজ আপেল বেশি সময় পরে বিবর্ণ হয় তাই আপেল কেনার সময় আমরা একটু দেখে আপেল ক্রয় করতে পারি
  • আপেল কাটার সময় আপেল কে পানির নিচে রেখে কাটতে পারি যাতে বায়ুর অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসতে না পারে এবং পরিবেশন করার আগ পর্যন্ত পানিতে রেখে দিতে পারি
  • বাজার থেকে এসকরবিক এসিড কিনে অর্ধেক টেবিল চামচ পরিমান নিয়ে তা অর্ধেক পানিতে নিয়ে এই অনুপাতে পানিতে ভালভাবে মিশিয়ে সে পানিতে আপেল কেটে ভিজিয়ে রাখা যায়
  • আপেল কাটার পর তা সামান্য লবন মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে নেয়া যেতে পারে
  • আধা চামচ পরিমান লেবুর রস কাটা আপেলের উপর ছিটিয়ে দিয়ে পরে তা ফ্রিজে রেখে দেয়া যেতে পারে
নিজেকে স্লিম রাখুন ২০টি দারুণ উপায়ে!

নিজেকে স্লিম রাখুন ২০টি দারুণ উপায়ে!



নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে শরীরটাকে হালকা রাখতে হিমসিম খেতে হয় প্রায় সবাইকে নতুন চাকরিতে কিংবা  বিয়ের কিছুদিন পরই শুরু হয়ে যায় দুশ্চিন্তা- দিন দিন তো মোটা হয়ে যাচ্ছি!আর মেয়েদের ক্ষেত্রে সন্তান হওয়ার পর তো কথাই নেই, ওজন বেড়ে দ্বিগুণকিন্তু আমরা কয় জনেই চাই ওজন বেশি নিয়ে ঘুরতে? অবশ্য না চাইলেও উপায় নেই, ওজন যেন কিচ্ছুতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় নাডায়েট, ব্যায়াম ইত্যাদি সবকিছুকে ব্যর্থ করে ওজন যেন দিন দিন বাড়তে থাকে আর বাড়তেই থাকে!
আপনি জানেন কি, এই ওজন বাড়ার জন্য কিন্তু আপনিই দায়িআপনি হয়তো ভাবচ্ছেন আমি তো সবই ঠিক ঠাক করছি কিন্তু না যা করছেন ভুল করছেনচলুন, আজ আমরা জেনে নেই এমন ২০টি টিপস, যেগুলো মেনে চললে সারা জীবন আপনার ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণেআপনি সবসময় থাকবেন ফিট ও হিট!
১. ডায়েটিং রোজকার জীবনে নিশ্চয়ই জরুরি, তবে খাবার খাওয়ার মধ্যে যেন বেশি সময়ের ব্যবধান না থাকেডায়েট করতে গিয়ে কখনোই না খেয়ে থাকবেনদিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ বার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুনহ্যাঁ, অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবার
২. যেহেতু আজকাল বেশিরভাগ চাকরিও সেই ডেস্কে বসে, তাই মেয়েদের ক্ষেত্রে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহনের পরিমান দিনে ১০০০-১৫০০ বেশি না হওয়াই ভালপুরুষের শারিরিরক চাহিদা একটু বেশি বিধায় তাদের জন্য ২০০০ ক্যালোরি বরাদ্দএর বেশি হলেই ভুঁড়ি জমতে সময় লাগবে না!
৩. রোজ দিনে অন্তত একবার হালকা শরীরচর্চা করা জরুরিদৈনিক ৩০ মিনিট দিন ব্যায়ামেহয়তো কোথাও হেঁটে গেলেন, কিংবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেরে নিলেন জগিং
৪. রাতের খাবার খাওয়ার পর খানিকক্ষণ হালকা শরীরচর্চা করা ভালখাওয়ার ২ ঘণ্টা পর একটু হেঁটে নিতে পারেনএতে শরীর ঝরঝরে থাকবে
৫. এলোপাথাড়ি ব্যায়াম না করে নিজের শরীরের সাথে মানানসই ব্যায়াম বেছে নেবেনএবং দৈনিক সময়মত করবেন ব্যায়ামটুকুবাজার থেকে কেনান সস খাওয়া বাদ দিন, এতে প্রচুর চিনি থাকে
৬. প্রত্যেক সপ্তাহে একই দিনে ও একই সময়ে ওজন মাপুনএটা আপনাকে মানসিকভাবে সাহায্য করে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে, রাখবে সতর্ক
৭. খাওয়াদাওয়ার সঠিক সময় মেনে চলুনএকদম ঘড়ির কাঁটা ধরেহজম ক্ষমতা গতিশীল রাখতে এটা খুব জরুরী
৮. সারাদিনের প্রত্যেকটা খাবার খাবেন, বাদ দেবেন নাএমনকি ব্রেকফাস্ট খাওয়াও প্রয়োজন অবশ্যইপেট দীর্ঘক্ষণ খালি রাখবেন নাএতে মেটাবলিজম কমে যাবে ও ওজন বাড়বে
৯. ভাজা-পোড়া যে খাবেন না তা কিন্তু নয়, খাবারের তালিকায় সপ্তাহে  একদিন রাখুন
১০. নির্দিষ্ট বেলার খাবারের মাঝের সময়ে যদি খিদে পায়,তাহলে প্রচুর পরিমানে পানি খানখেতে পারেন প্রচুর ফল
১১. মিষ্টি, কোমল পানীয়, কেক ইত্যাদি খাবার সপ্তাহে একদিনবিস্কিট কিনতে হলে ডায়েট বিস্কিট কিনুন
১২. প্রাণীজ ফ্যাট, বিশেষত লাল মাংস ও ডালডা খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিনমাংস খেলে চামড়া ও চর্বি বাদ দিয়ে খান অবশ্যই
১৩. অতিরিক্ত দুধ জাতীয় খাবার যেমন মাখন বা চিজ বেশি খাবেন নাসপ্তাহে দুদিন চলতে পারে
১৪. দিনে দুইকাপ গ্রিন টি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন
১৫. মাদকজাতীয় দ্রব্যের নেশা ছেড়ে দিনমদ্যপান ছেড়ে দিনবিশেষ করে ধুমপানকে না বলুন
১৬. পর্যাপ্ত পরিমানে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খান (যেমন আলু, ভাত, রুটি)এগুলো বেশি খাওয়া মানেই শরীর মোটা হয়ে যাওয়ালাল চালের ভাত ও লাল আটার রুটি খেতে পারলে সবচাইতে ভালো
১৭. দুপুরে ও রাতে অবশ্যই এক কাপ করে সালাদ বা কম মশলায় রান্না সবজি খেতে হবে
১৮. খাবারের প্লেটের আকার ছোট করুন এবং একবারের বেশি দুবার নিয়ে খাওয়ার প্রবণতা ত্যাগ করুনখাবার একবারেই প্লেটে তুলে নেবেন
১৯. চেষ্টা করুন সকালে ভারী ব্রেকফাস্ট করারসামান্য ভারী লাঞ্চ এবং হালকা ডিনার করারনাস্তা হিসাবে খান বাদাম, মুড়ি, ফল, ডায়েট বিস্কিট
২০. চিনি খাওয়া কমিয়ে নিয়ে আসুন দিনে দুই চামচেএর বেশি প্রয়োজন নেই

ধুমপানের ক্ষতিকর দিক



আমার গর্ব, আমি কখনও ধুমপান করিনাআমার গর্ব কখনও অ্যালকোহল পান করিনাএমনকি কখনও অ্যানর্জি ড্রিংকসও পান করিনিযে যুগে ধুমপান করেনা, রকম মানুষ পাওয়া প্রায় দুঃসাধ্য, যে যুগে, মেয়েরা পর্যন্ত ধুমপান করে, সেযুগে জন্ম হয়েও আমি কখনও ফান করেও এ কাজগুলো করিনিসুতরাং গর্ব করতেই পারিযারা ধুমপান করে তাদেরকেও অনুরোধ করব, এটি যাতে ছেড়ে দেয়
আমরা সবাই জানি ধুমপান মানবদেহের অনেক ক্ষতি করেকিন্তু যা জানিনা, তা হলো ঠিক কিভাবে ক্ষতিটা করেসেটি নিয়েই আজকে আমার এ পোস্ট


ধুমপান কখনও একদিনে কাউকে  ধ্বংস করে দেয় নাযত দিন যাবে, যত বয়স বাড়বে তত এর ক্ষতির দিকগুলো দেখা যায়গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবছর প্রায় ৫.৫ ট্রিলিয়ন সিগারেট তৈরি করা হয় আর প্রায় ১.১ বিলিয়ন মানুষ সিগারেট বা ধুমপান করছেএর মধ্যে প্রতি ১০০ জনে এশিয়ায় প্রায় শতকরা ৪৪ ভাগ পুরুষ ও ৪ ভাগ মহিলা সিগারেট বা ধুমপান করেনইউরোপে নারীদের সিগারেট বা ধুমপান করার হার বেশি প্রায় শতকরা ৪৬ ভাগ পুরুষ ও ২৬ ভাগ মহিলাআমেরিকায় এটি প্রায় ৩৫ ও ২২ ভাগকিন্তু পশ্চিম মহাসাগরীয় অঞ্চলে সিগারেট বা ধুমপান মহামারির মত প্রায় ৬০ ভাগ পুরুষ ও ৮ ভাগ নারী ধুমপানে আসক্ত

মানবদেহে  ধুমপানের ক্ষতিকর দিক

১. ধুমপানের কারণে ফুসফুসে ক্যান্সার হয়
২. হার্ট এটাক ও স্ট্রোক ঘটায়
৩. ধমনীতে (করনারি আর্টারি) ব্লকেজ তৈরি করেতখন এনজিওপ্লাস্টি করে আর্টারিতে রিং পরাতে হয়, এই রিং ১০ বছরের মতন থাকেএরপর অবস্থার উন্নতি না হলে বাইপাস সার্জারি (ওপেন হার্ট) করানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না
৪. দিনে ২০টি সিগারেট খাওয়া স্মোকার প্রতি বছর প্রায় ১ কাপ পরিমান আলকাতরা ধোঁয়ার সাথে ভেতরে নেয়এই পরিমান আলকাতরা ফুসফুসে ঝুল সৃষ্টি করে আবৃত করে রাখে
৫. কার্বন মনোক্সাইড আমাদের পেশী, টিস্যু ও ব্রেনের অক্সিজেনকে নিঃশেষ করে দেয়এসব টিস্যুকে অক্সিজেনেটেড রাখতে ফলে হার্টকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় ফলে একসময় দেহের বায়ু প্রবেশপথ ফুলে ওঠে ও শেষে দেখা যায় ফুসফুসে কম বাতাস প্রবেশ করে
৬. ধুমপানের কারনে  ফুসফুসে এমফাইসেমাসৃষ্টি করেএমফাইসেমাহলে ধীরে ধীরে ফুসফুস পঁচে যায়এমফাইসেমারোগীর যখন তখন ব্রংকাইটিস হয়ে থাকেযেকোনো সময় হার্ট কিংবা ফুসফুসের স্পন্দন বন্ধ করে দিতে পারে
৭. গর্ভাবস্থায় স্মোকিং করলে ঘনঘন গর্ভপাত, জন্মের আগেই বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে, আর বাচ্চার যদি জন্ম হয়ও দেখা যায় সেই বাচ্চা কম ওজন নিয়ে বা অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহন করে
৮. এছাড়া ধুমপান মুখে বাজে গন্ধ সৃষ্টি করেদাঁতের ও মাড়ির ক্ষয় ঘটায়
৯. ধুমপানের কারণে শরীরের ত্বকে অক্সিজেন কম আসে, ফলে অল্প বয়সে বৃদ্ধদের মত রুক্ষ্য ত্বকের সৃষ্টি হয়এমনকি কম অক্সিজেনের কারণে অঙ্গে পঁচন দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত তা কেটে ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না
১০. হাড়ের ক্ষয় ঘটায়মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি আরো মারাত্মককেননা মেয়েরা এমনিতেই অস্টিওপরেসিসে ভোগে বেশি, তার উপর ধুমপায়ী মেয়েরা ১০-১৫% বেশি এ রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে পড়ে
১১. পাকস্থলীর ক্যান্সার বা আলসার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ব্লাডারের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যেই ধুমপানের জন্য ১০০টাকা খরচ করে আসলে আমরা প্রতিদিন নিজের মৃত্যুকে কিনে নিচ্ছিতাই আশাকরি সচেতন হয়ে এই ভয়ংকনর ধুমপান ছেড়ে দিতে উদ্যোগী হবযেই টাকা খরচ করছেন মৃত্যু কেনার জন্য, সেই টাকা দিয়ে ভাল কিছু খাওয়া শুরু করেন
ভেজালমুক্ত আম খান, সুস্থ থাকুন

ভেজালমুক্ত আম খান, সুস্থ থাকুন



বাজারে সুস্বাদু আম চলে এসেছেহরেক রকমের নাম, হরেক রকমের স্বাদফল খেলে শরীর সুস্থ থাকে, সতেজ থাকেআর দেশীয় ফল কিরকম সুস্বাদু, সেটাতো বলার দরকার নাইআর আম হলেতো কথাই নাইকিন্তু এ সুস্বাদু ফলে যদি কেমিক্যাল মিশানো থাকে, তাহলে সে ফল আপনার জন্য আতংকের কারণ হয়ে থাকেএমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারেসেজন্য আম কেনার সময় সতর্ক থাকতে হবেনা হলে ভাল কিছু খাওয়াতে গিয়ে নিজের পরিবারের আপন মানুষদেরকে বিষ খাওয়াতে হতে পারে

কিভাবে চিনবেন কেমিক্যালযুক্ত আম?

১. প্রথমেই লক্ষ্য করুন, আমের গায়ে মাছি বসছে কি-নাএর কারণ, ফরমালিন যুক্ত আমে মাছি বসে না
২. আম গাছে থাকা অবস্থায় বা গাছপাকা আম হলে লক্ষ্য করে দেখবেন যে আমের শরীরে এক রকম সাদাটে ভাব থাকেকিন্তু ফরমালিন বা অন্য রাসায়নিকে চুবানো আম হবে ঝকঝকে সুন্দর
৩. কারবাইড বা অন্য কিছু দিয়ে পাকানো আমের শরীর হয় মোলায়েম ও দাগহীন কেননা আমগুলো কাঁচা অবস্থাতেই পেড়ে ফেলে ওষুধ দিয়ে পাকানো হয়গাছ পাকা আমের ত্বকে দাগ পড়বেই
৪. গাছপাকা আমের ত্বকের রঙে ভিন্নতা থাকবেগোঁড়ার দিকে গাঢ় রঙ হবে, সেটাই স্বাভাবিককারবাইড দেওয়া আমের আগাগোড়া হলদেটে হয়ে যায়, কখনো কখনো বেশি দেওয়া হলে সাদাটেও হয়ে যায়
৫. হিমসাগর ছাড়াও আরও নানান জাতের আম আছে যা পাকলেও সবুজ থাকে, কিন্তু অত্যন্ত মিষ্টি হয়গাছপাকা হলে এইসব আমের ত্বকে বিচ্ছিরি দাগ পড়েওষুধ দিয়ে পাকানো হলে আমের শরীর হয় মসৃণ ও সুন্দর
৬. আম নাকের কাছে নিয়ে ভালো করে শুঁকে কিনুনগাছ পাকা আম হলে অবশ্যই বোটার কাছে ঘ্রাণ থাকবেওষুধ দেওয়া আম হলে কোনো গন্ধ থাকবে না, কিংবা বিচ্ছিরি বাজে গন্ধ থাকবে
৭. আম মুখে দেওয়ার পর যদি দেখেন যে কোনো সৌরভ নেই কিংবা আমে টক বা মিষ্টি কোনো স্বাদ নেই, বুঝবেন সে আমে ওষুধ দেওয়া
৮. আম কেনা হলে কিছুক্ষণ রেখে দিনএমন কোথাও রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করে নাগাছ পাকা আম হলে গন্ধে মৌ মৌ করে চারপাশওষুধ দেওয়া আমে এ মিষ্টি গন্ধ হবেই না
৯. আমের গায়ে সাধারণত এক ধরনের সাদা পাউডারের মতো থাকেযা পানিতে বা ফরমালিনে চুবালে চলে যায় এটাও খেয়াল রাখুন
১০. কেমিক্যালে পাকানো আম হলুদ না হয়ে সাদার মত রং ধারণ করেঅনেক সময় ক্রেতার নজর কাড়তে ও আমের গায়ে থাকা দাগ দূর করতে এক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়কিছু আম আছে যে পাকলেও চামড়া সবুজ থাকে এরকম আম ক্রেতারা দেখেই কিনতে চায় নাতাই এরকম ক্রেতাদের ভুলের কারণেও কেমিক্যালের ব্যাবহার হয়
আশাকরি. এ ১০টি টিপস মেনে চললে কেমিক্যাল মুক্ত আম কিনতে পারবেন আপনি মনে রাখবেন কেমিক্যালযুক্ত আম লিভারের সমস্যা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের কারণ পযন্ত হতে পারে
বারবার একই তেল দিয়ে কিছু ভাজা কেন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

বারবার একই তেল দিয়ে কিছু ভাজা কেন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?



যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি তা আমাদের নিত্যদিনের অনুষঙ্গ অর্থা একই তেলে বার বার ভাজা এটা সারাবছর ধরে হোটেল-রেস্তোরায় চলে কিন্তু এর ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক প্রথমেই আমাদের জানা দরকার একই তেল বার বার উত্তপ্ত করলে করলে তেলের কী কী পরিবর্তন হয়-

তেলের এসিডিটি বেড়ে যায়ঃ

একই তেলে বার বার ভাজলে সে তেলে ফ্রী ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়ফ্রী ফ্যাটি এসিড যেহেতু নিজে একটা এসিড তাই তেলে এর পরিমাণ বাড়লে তেলের এসিডিটিও বেড়ে যায়আয়োডিন ভ্যালু,পারঅক্সাইড ভ্যালু ও কার্বোনিল ভ্যালু এগুলো তেলের ফ্রী ফ্যাটি এসিডের মাত্রা নির্দেশকনীচে পাম তেলকে বার বার হিট দিলে এসব ভ্যালু নির্দেশকের কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে তার একটি তালিকা উপস্থাপন করা হলোঃ


অটোঅক্সিডেশনঃফী ফ্যাটি এসিড অক্সিজেনের উপস্থিতিতে খুব সহজেই বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে সর্বনাশা ফ্রী রেডিক্যাল তৈরী করেফ্রী রেডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব দেহের সর্বত্রই বিশেষতঃ ভাইটাল অর্গান যেমন লিভার,হার্ট ও কিডনীর উপর সুস্পষ্ট দৃশ্যমানআমরা যে ধীরে ধীরে বুড়ো হয়ে যাচ্ছি তার পেছনে রয়েছে এ শত্রুটিআমরা অনেকেই এন্টি-অক্সিডেন্ট শব্দটার সাথে পরিচিতঅনেকেই সুস্বাস্থ্যের জন্য ও যৌবন ধরে রাখতে এন্টি-অক্সিডেন্ট ভিটামিন (যেমন Tab.REX) বা এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন-অাপেল (আপেল নিয়ে একটা প্রবাদই আছে-An apple a day keeps the doctor away) গ্রহণ করে থাকিএকই তেল বার বার ভাজার কাজে ব্যবহার করলে তাতে প্রচুর পরিমাণে ফ্রী রেডিক্যাল তৈরী হয় যা আমাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটায়আপনাদের অবগতির জন্য ইঁদুরের হার্ট,কিডনী ও লিভারের উপর এরকম তেল ভক্ষণের কী মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছিল তার হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল প্লেট উপস্থাপন করা হলো (Nitte University Journal of Health Science,NUJHS Vol. I, No.4, December 2011,
ISSN 2249-7110 থেকে প্রাপ্ত )-
ট্রান্স ফ্যাটঃতেলকে বার বার হিট দিলে এর সম্পৃক্ত চর্বি ভেঙ্গে ফ্রী ফ্যাটি এসিডে রূপান্তরকালে ট্রান্স ফ্যাট তৈরী হয়এই ট্যান্স ফ্যাট শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর
এইচ.এন.ইঃ HNE (4-hydroxy-trans-2-nonenal) একটি মারাত্মক বিষএকই তেলকে বার বার হিট দিলে তাতে HNE তৈরী হয়
দূষণঃ ভাজা তেলে অনেক খাদ্যকণা থাকে যার উপর বিভিন্ন ব্যকটেরিয়া ও মোল্ডের সংক্রমণ হয় এবং তাদের নিঃসৃত তাপ প্রতিরোধী টক্সিন তেলে মিশে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর

এরূপ তেলের ক্ষতিকর দিকগুলো কী কী?

গ্যাট্রিকের সমস্যাঃযেহেতু বার বার হিট দেওয়া তেলের এসিডিটির মাত্রা বেশী তাই এ তেল বা এ তেলে ভাজা খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই বুক জ্বালাপোড়া,পেটে ব্যাথা,ডায়রিয়া হতে পারে এবং যাদের পেপটিক আলসার জনিত সমস্যা আছে তা বেড়ে যেতে পারেযারা নিয়মিত হোটেলে খাবার খেয়ে থাকেন তারা প্রায়ই এধরণের সমস্যার মুখোমুখি হনএকারণে ইফতারির শুরুটা ভাজা খাবার দিয়ে শুরু না করাটাই স্বাস্থ্যসম্মতসবচেয়ে ভাল হয় সিদ্ধ খাবার দিয়ে ইফতারি করা
ফ্রী রেডিক্যালজনিত ক্ষতিঃশরীরের এমন কোন কোষ নাই যার উপর ফ্রী রেডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব নেইএটা শুধু প্রদাহই করে না কোষকে মেরেও ফেলেএর সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায় রক্তনালী ও হৃদপিন্ডে,লিভারে,কিডনীতে এবং ব্রেনেফ্রী রেডিক্যালের জন্য আমাদের ত্বকও স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে জড়জড় হতে থাকে যা আমরা রিংকেল বা বলিরেখা হিসাবে দেখে থাকিএই বলিরেখার জন্যই আমাদেরকে বয়স্ক দেখায়সুতরাং যারা তারুণ্য ধরে রাখার সংগ্রামে লিপ্ত তাদের জন্যও এটা সর্বনাশী
ট্র্যান্স ফ্যাটজনিত ক্ষতিঃট্যান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে সৃষ্ট হৃদরোগে (coronary heart disease) খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯৯৪ সালে মারা গেছেন ৩০,০০০ জন মানুষ এবং ২০০৬ সালে ধারণাভিত্তিক ১,০০,০০০ জন মানুষএছাড়াও ট্র্যান্স ফ্যাটের কারণে আরও যে রোগগুলো হতে পারে সেগুলো হলো-ক্যান্সার,টাইপ-২ ডায়াবেটিস,স্থুলতা,অ্যালজেইমারস ডিজিজ,লিভারের সমস্যা,বন্ধ্যাত্ব,বিষন্নতা,অস্থির ও আক্রমণাত্মক আচরণ ইত্যাদি
এইচ.এন.ই জনিত ক্ষতিঃএই বিষ খাদ্য থেকে অতি দ্রুত শোষিত হয়ে আমাদের রক্তে চলে যায় এবং ডি.এন.এ, আর এন.এ ও অন্যন্য কার্যকরী প্রোটিনের সাথে রিঅ্যাক্ট করে নানা রোগ তৈরী করে যার মধ্যে আছে ক্যান্সার,অালজেইমারস ডিজিজ,পারকিনসন্স ডিজিজ ও হান্টিংটনস ডিজিজ এবং লিভারের নানা অসুখ
কোলেষ্টেরল বাড়ায়ঃনিয়মিত এরূপ তেল ভক্ষণ করলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেষ্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়আমরা সবাই জানি বাড়তি কোলেস্টেরল স্বাস্থ্যের জন্য কত ক্ষতিকরনীচে ইঁদুরের উপর চালানো এক পরীক্ষায় যে তথ্য পাওয়া গেছে তা উপস্থাপন করা হলো (Nitte University Journal of Health Science,NUJHS Vol. I, No.4, December 2011,
ISSN 2249-7110 থেকে প্রাপ্ত )-


আশা করি বুঝতে পেরেছেন ভাজার কাজে ব্যবহৃত একই তেলকে বার বার ব্যবহার করলে তার তাক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যহানি কত মারাত্মক হতে পারেআমরা এ ব্যাপারে নিজেরা সচেতন হই ও অন্যদেরকেও সচেতন করে তুলি এবং বাইরের ভাজা খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলি
ফরমালিন কি? এর ক্ষতিকর দিক এবং মুক্ত থাকার উপায়

ফরমালিন কি? এর ক্ষতিকর দিক এবং মুক্ত থাকার উপায়



বর্তমান যুগে আমরা প্রায়শঃ ফরমালিনের কথা শুনিএটা নিয়ে অনেক আতংকিতকেউ জেনে আতংকিত, কেউ না জেনে আতংকিতআজকে এ ফরমালিন বিষয়ে বিস্তারিত সবাইকে জানাবোযারা অল্প জানেন কিংবা যারা কিছুই জানেননা, তাদের সবার জন্য পোস্টটি অনেক কাজে লাগবে আশা করি

ফরমালিন কি?

ফর্মালিন (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের (CH2O) পলিমারফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মত জলে সহজেই দ্রবনীয়শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ফর্মালিনের জলীয় দ্রবনকে ফর্মালিন হিসাবে ধরা হয়ফর্মালিন সাধারনত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকরলিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রথমে ফরমালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর

ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক:

  • ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করেফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে
  • তাক্ষণিকভাবে ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কারবাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে
  • ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুুকে ধ্বংস করে দেয়লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়হার্টকে দুর্বল করে দেয়স্মৃতিশক্তি কমে যায়
  • ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারেঅস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারেএতে মৃত্যু অনিবার্য
  • মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে
  • ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণতবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রেফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছেকিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররাশিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমছে
  • গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছেসন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে
  • এ ধরনের খাদ্য খেয়ে অনেকে আগের তুলনায় এখন কিডনি, লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের সমস্যায় ভুগছেনদেখা যাচ্ছে, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন

খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনের উপস্তিতি নানা পরীক্ষার মাধ্যমে করা যায় যেমন-

1) ফরমালডিহাইডের দ্রবণের সঙ্গে ২ সিসি ফিনাইল হাইড্রোজাইন হাইড্রোকোরাইড (১%) এবং ১ সিসি ৫% পটাসিয়াম ফেরিসায়ানাড দিয়ে তারপর ৫ সিসি ঘনীভূত হাইড্রোকোরিক অ্যাসিড মেশালে পুরো দ্রবণ গাঢ় গোলাপী রঙ হয়ে থাকেএকে বলা হয় সেরিভারস্ টেস্ট
2) ফরমালডিহাইডের হালকা দ্রবণ যেমন মাছে ফরমালিন দেয়া আছে তা ধুয়ে তার জলে ১ সিসি সোডিয়াম নাইট্রোপ্রোসাইড মেশালে গাঢ় সবুজ নীল রঙ ধারণ করেএতে ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে
এ সমস্ত কেমিক্যাল এবং রি-এজেন্ট পাওয়া খুব কঠিন এবং দামও অনেক বেশীতাই সহজ এবং সাধারণ একটি পদ্ধতি বের করা যায়যেমন সন্দেহযুক্ত ফরমালিন মাছ ধুয়ে জলে ৩% (ভলিউম) হাইড্রোজেন পারক্সাইড মেশালে ফরমালডিহাইড অক্সিডাইজড হয়ে ফরমিক অ্যাসিডে রূপান্তর হয়ফরমিক এসিড প্রমাণের জন্য সে জলে অল্প মারকিউরিক কোরাইড মেশালে সাদা রঙের তলানি পড়বেতাতেই প্রমাণ হবে ফরমিক অ্যাসিড তথা ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিনএখন কথা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্যে ফরমালনিরে উপস্তিতি পরীক্ষার উপকরণগুলো সহজলভ্য নয় আর সবচেয়ে বড় কথা, কেনার সময় যদি সাথে করে এসব নিয়ে যেতে হয় তাহলে হয়তো কেনাটাই ছেড়ে দিতে হবে

কিভাবে মাছ থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন?

1) ফরমালিনবিহীন মাছের ফুলকা উজ্জ্বল লাল র্বণ , চোখ ও আঁশ  উজ্জ্বল হয়,শরীরে আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়,মাছের দেহ নরম হয় অন্যদিকে ফরমালিনযুক্ত মাছের ফুলকা ধূসর, চোখ ঘোলাটে ও ফরমালনিরে গন্ধ পাওয়া যায় হয়, আঁশ তুলনামূলক ধূসর র্বণরে হয়, শরীরে আঁশটে গন্ধ কম পাওয়া যায়, দেহ তুলনামূলক শক্ত হয়
2) পরীক্ষায় দেখা গেছে জলে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়
3) লবনাক্ত জলে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায়
4) প্রথমে চাল ধোয়া জলে ও পরে সাধারন জলে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয়
5) সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও জলের  মিশ্রনে (জলে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়

কিভাবে ফল ও সবজি থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন?

1) যে ধরনের রাসায়নিক দেয়া হোক না কেন যদি  আমরা একটু সচেতন হই তাহলে ফল খাওয়া সম্ভব আমাদের যা করতে হবে তা হল- খাওয়ার আগে এক ঘণ্টা বা তার চেয়ে একটু বেশী সময় ফলগুলো জলে ডুবিয়ে রাখতে হবে
2) লিচু কাঁচা অবস্থায় সবুজপাকার পর হয় ইটা লালএখন গাছে রাসায়নিক স্প্রে করে যার ফলে লিচু গাঁড় মেজেনটা রং ধারন করে তা বড়ই মনমুগ্ধকর কিন্তু  চকচক করলে সোনা হয় না সেটা মনে রেখে কখনোই গাঁড় মেজেনটা রঙ্গের লিচু কেনা যাবে না
3) সবজি রান্না করার আগে গরম জলে লবণ মিশিয়ে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন
4) বেগুনে এক ধরনের রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করা হয় এই রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার ক্ষতিকর না যদি নিয়মানুসারে দেয়া হয়কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকেরা এ ব্যাপারে অজ্ঞতারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন নাপ্রতিটি কীটনাশকের ক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত থাকেযেমন- একটি কীটনাশকের সেলফ লাইফ বা জীবন সীমা ৭দিন, তার মানে কীটনাশকটা ব্যবহারের ৭দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে, যা কীটপতঙ্গের জন্য ক্ষতিকরতাই কৃষকদের উচিত কীটনাশক ব্যবহারের অন্তত ৭দিন পর ফলন তোলাকিন্তু তারা তা না করে ২-১ দিনের মাঝেই ফলন তোলেনফলে কীটনাশকের ক্রিয়া ক্ষমতা  থেকে যায়, যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আমাদের উপরতাই বাজারে সতেজ, উজ্জ্বল বেগুন না কিনে কিছুটা অনুজ্জ্বলপোকায় কিছুটা আক্রান্ত এমন বেগুন কেনাই ভালো
.