.
Showing posts with label awareness. Show all posts
Showing posts with label awareness. Show all posts

জীবনের শিক্ষা হতে পারে জালাল উদ্দিন রুমির কিছু জ্ঞানগর্ভ উক্তি

এখানে ১০টি জনপ্রিয় উক্তি তুলে ধরা হলো। এগুলো ১৩ শতকের জনপ্রিয় পার্সি কবি জালাল আদ-দিন মুহামেদ রুমির উক্তি।

এগুলো হতে পারে আপনার জীবনের অনেক বড় শিক্ষা।

১. তুমি সাগরে এক বিন্দু পানি নও। তুমি এক বিন্দু পানিতে গোটা এক সাগর।
শিক্ষাটা হলো- নিজের মূল্য বুঝতে হবে।
২. আমাদের মধ্যে এক অদৃশ্য শক্তি লুকিয়ে আছে। এটা যখন দুটো বিপরীতমুখী বাসনার উপলব্ধি প্রকাশ করে, তখন তা শক্তিশালী হতে থাকে।
শিক্ষাটা হলো- নিজের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে থাকুন।
৩. গতকাল আমি চতুর ছিলাম। তাই আমি পৃথিবীটাকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি জ্ঞানী, তাই নিজেকে বদলে ফেলতে চাই।
শিক্ষাটা হলো- পরিবর্তনটা আপনি আনুন।
৪. শোক করো না। তুমি যাই হারাও না কেন তা অন্য কোনো রূপে ফিরে আসবে।
শিক্ষাটা হলো- ইতিবাচক থাকুন।
৫. প্রত্যেককে বানানো হয়েছে নির্দিষ্ট কাজের জন্য এবং প্রত্যেক হৃদয়ে সেই কাজটি করার আকাঙ্ক্ষাও দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাটা হলো- নিজের আবেগ নিয়ে বেঁচে থাকুন।
৬. কেউ যখন কম্বলকে পেটাতে থাকে তখন সেটা কম্বলের বিরুদ্ধে নয়, ধুলোর বিরুদ্ধে।
শিক্ষাটা হলো- মনোযোগী থাকুন।
৭. আমাদের চারদিকে সৌন্দর্য ছড়িয়ে রয়েছে। সাধারণত একে বুঝতে একটি বাগানে হাঁটার প্রয়োজন অনুভব করি আমরা।
শিক্ষাটা হলো- নিজের পথ নিজেই সৃষ্টি করুন।
৮. যখন নিজের মূল্য নির্ধারণের দিনটি আসবে তখন আপনার পরিচয় ফুটিয়ে তোলাটাই বিজ্ঞানের নির্যাস।
শিক্ষাটা হলো- আপনি যেমন তেমনই থাকুন।
৯. শোক প্রকাশ হতে পারে সমবেদনার বাগান। যদি সবকিছুতে নিজের হৃদয়টাকে উদার রাখতে পারেন, বেদনা আপনার শ্রেষ্ঠ বন্ধু হতে পারে।
শিক্ষাটা হলো- ভালোবাসা ও জ্ঞানের জন্য নিজের যাত্রাটাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখুন।
১০. আমার প্রথম প্রেমের গল্প শোনামাত্র তোমাকে খুঁজতে থাকি, কিন্তু জানি না ওটা কতটা অন্ধ ছিল। প্রেম আসলে কোথাও মিলিত হয় না। সারাজীবন এটা সবকিছুতে বিরাজ করে।

Also  see nice enjoying happy halloween day time

ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার বিষয়ে জানুন

ফুলকপি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সবজিগুলোর একটি যা ক্রুসিফেরি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এতে পানির পরিমাণ থাকে ৮৫% এবং খুব অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে।  কিন্তু এতে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্য ফাইটোকেমিক্যাল ও থাকে। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। এই বহুমুখী গুণ সম্পন্ন সবজিটি কাঁচা, সেদ্ধ বা রান্না করেও খাওয়া যায়। চলুন জেনে নিই ফুলকপির চমৎকার কিছু উপকারিতার বিষয়ে।
১। হৃদ-স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে
ফুলকপিতে সালফারের যৌগ সালফোরাফেন থাকে যা ব্লাড প্রেশারের উন্নতিতে সাহায্য করে। গবেষণা মতে সালফোরাফেন ডিএনএ এর মিথাইলেশনের সাথে সম্পর্কিত যা কোষের স্বাভাবিক কাজের জন্য এবং জিনের সঠিক প্রকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, বিশেষ করে ধমনীর ভেতরের প্রাচীরের। সালফোরাফেন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস করতে পারে এবং টিউমারের বৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। অন্য এক গবেষণায় জানা যায় যে, ফুলকপির সাথে হলুদ যোগ করে গ্রহণ করলে প্রোস্টেট ক্যান্সার নিরাময়ে ও প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।  
২। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
ফুলকপিতে আরেকটি উপকারী যৌগ কোলাইন থাকে। কোলাইন একটি বি ভিটামিন। এটি মস্তিষ্কের উন্নয়নে সাহায্য করে। প্রেগনেন্সির সময়ে ফুলকপি গ্রহণ করলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের গঠনে সাহায্য করে। গবেষণায় নির্দেশ করা হয়েছে যে, জ্ঞানীয় কাজের, শিক্ষার এবং স্মৃতির উন্নয়নে সাহায্য করে কোলাইন।  

৩। শরীরকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে
ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীর পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে গ্লুকোসাইনোলেটস থাকে যা এনজাইমকে সক্রিয় করে এবং ডিটক্স হতে সাহায্য করে।

৪। প্রদাহ কমায়
ফুলকপিতে ইন্ডোল ৩ কার্বিনোল বা I3C থাকে যা একটি অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান। এটি শক্তিশালী ইনফ্লামেটরি রিঅ্যাকশন প্রতিরোধ করে।

৫। হজমের উন্নতি ঘটায়
যেহেতু ফুলকপি ফাইবারের গুরুত্বপূর্ণ উৎস সেহেতু এটি হজমের উন্নতিতে সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ডস হেলদিয়েস্ট ফুডস এর মতে, ফুলকপি পাকস্থলীর প্রাচীরের সুরক্ষায় সাহায্য করে। ফুলকপির সালফোরাফেন পাকস্থলীর হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে এবং পাকস্থলীর প্রাচীরে এর আবদ্ধ হওয়াকে প্রতিহত করে।

৬। ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ
ফুলকপিতে ভিটামিন সি, বিটাক্যারোটিন, কায়েম্ফেরোল, কোয়ারসেটিন, রুটিন, সিনামিক এসিড সহ আরো অনেক উপাদান থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতির হাত থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। এগুলো বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করে এবং টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি হওয়া প্রতিহত করে।
সারা জীবনের জন্য ত্যাগ করুন ক্ষতিকর ১০ অভ্যাস

সারা জীবনের জন্য ত্যাগ করুন ক্ষতিকর ১০ অভ্যাস



আমাদের দৈনন্দিন আচার-অভ্যাসের মধ্যে কিছু কিছু এমন কাজ আছে যা ক্ষতিকরএকটু চেষ্টা করলেই স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর এসব বদভ্যাস থেকে মুক্ত হতে পারি আমরা  দেখে নিন এই অভ্যাসগুলো আপনার মধ্যে আছে কি না
১. দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার কারণে বা অন্য ব্যস্ততার কারণে সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রায়শই মুখ ধুয়ে জামা-জুতো পরে আমাদের ছুটতে হয় কর্মেক্ষেত্রে ধরনের পরিস্থিতিতে সকালে নাশতা খাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে যেতে হয়কিন্তু এ কথাটা ভুলে গেলে চলবে না- সকালের নাশতাটা হচ্ছে সারাদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোজনচেষ্টা করুন পর্যাপ্ত পুষ্টি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিয়ে সকালের নাশতাটা একটু ভালোমতো করে নিতেএরপর দিনের বাকি সময়টুকুতে নির্দিষ্ট সময় পরপর ৪ থেকে ৫ বার অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খান ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর যে কোনও স্ন্যাক্সও চলতে পারে
২. অনেকেই কফির সঙ্গে মাখনসমৃদ্ধ ক্রিম খানএর সঙ্গে থাকে দুধের অন্যান্য উপাদান আর সুগন্ধিযুক্ত চিনির সিরাপএই পানীয়টি দিনে এক বা দুই কাপ হলে ঠিক আছেকিন্তু এর বেশি হলেই এ থেকে যোগ হওয়া বাড়তি ক্যালরি আপনার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারেমুটিয়ে যাওয়াসহ নানা স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় পড়তে পারেনতাই সবচে ভালো হয় যদি ক্রিম কফিপ্রেমীরা দৈনিক কফি গ্রহণের মাত্রাটা দুই কাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুনপানীয়ের প্রয়োজনে যতটুকু সম্ভব পানি গ্রহণ করুন
৩. দ্রুত খাওয়া শেষ করতে চাওয়া আজকাল প্রায় সবার মধ্যেই সংক্রমিত হয়ে গেছেএভাবে গাপুস-গুপুস কায়দায় খাবার গ্রহণ করার বদভ্যাসটি এই মুহূর্তে ত্যাগ করুনবিশেষ করে লাঞ্চের সময় পেরিয়ে যাওয়ার লগ্নে খাবার খেতে গিয়ে এই কাজটা বেশি হয়এতে শাসনালিতে সমস্যাসহ দম আটকে তাণিক মৃত্যুও ঘটতে পারে তাড়াহুড়ায় খাবার না খেয়ে হয়ে ধীর-স্থিরভাবে খাবারকে উপভোগ করে খেতে হবে
৪. বেমানান ও বেসাইজের জুতো পরিধান করাও আপনার স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারেএ কারণে আপনার দৈনন্দিন হাঁটচলার সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিটি বদলে যেতে পারে যা আপনার জন্য হবে কষ্টকর আর অন্যদের চোখে হতে পারে হাস্যকরমেয়েদের হাইহিল পরার ক্ষেত্রে বলা যায়, হয়তো আপনি ব্যথা অনুভব করছেন না, তারপরও দীর্ঘক্ষণ হাইহিল পরে থাকার কুপ্রভাব আপনার পা ও শরীরের ওপর পড়বেইতাই যতটা সম্ভব বেখাপ্পা আর কিম্ভূত সাইজের এবং উঁচু হিলের বদলে আরামদায়ক এবং ফ্ল্যাট হিলের জুতো বা স্যান্ডেল পায়ে দিনএতে চলাফেরায় অহেতুক শারীরিক ঝুঁকি নেওয়া থেকে নিরাপদ থাকবেন আপনি
৫. অনেকেই আলসেমির ফাঁদে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে দাঁত মাজার মতো দরকারি কাজটাকে অবহেলা করেনঅবহেলাজনিত এই বদভ্যাসের দায় আপনাকে শোধ করতে হতে পারে দাঁতে প্লাক সৃষ্টি, দাঁত ও মুখের নানাবিধ অসুখসহ পেটের পীড়া এবং গলার নানান অসুখের মাধ্যমেএর সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে আপনাকে মনে রাখতে হবে রাতে দাঁত না মাজার ফলে দাঁত ও মাড়িতে আস্তানা গাড়া দন্তমল ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার অভয়ারণ্য তৈরি করবে আপনার মুখেবিষয়টি সমগ্র মানবদেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিধায় আপনার শিশুকেও রাতে দাঁত মাজার ব্যাপারে অভ্যস্ত করে তুলুন
৬.পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আপনার ওজন বাড়িয়ে দিতে পারেকীভাবে? ঘুমের স্বল্পতা আপনার পরিপাক ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলার কারণে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণের অভ্যাস গড়ে উঠতে পারেআর ভুলে গেলে চলবে না ওবেসিটি বা স্থূলতা রোগের মূল কারণগুলোর একটি হচ্ছে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের অভ্যাসদৈনিক অল্প ঘুমোনোদের অনেকেই আবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একটানা দীর্ঘক্ষণ পড়ে পড়ে ঘুমানএটাও মোটুত্বের কারণ হতে পারেতাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় ঘুমান
৭. উল্টো দিকে পিঠ বাঁকিয়ে আড়মোড়া ভাঙার কায়দায় কসরত করে অনেকেই পিঠের ব্যথা দূর করে থাকেনএতে ক্ষতির কিছু নেইতবে ক্ষতি হতে পারে যদি আপনি ঘুম ওঠার পরপরই এই কসরতটি করতে যানবিশ্রামে থাকা মাংশপেশিতে হঠা করেই চাপ ও সংকোচনের ফলে ক্ষণস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে শরীরেএ অবস্থার শিকার হতে না চাইলে ঘুম থেকে উঠেই পিঠ বাঁকানোর কসরত ত্যাগ করতে হবে আপনাকেবিছানা ছাড়ার পর প্রাকৃতিক কাজ সারার পর দাঁত মাজা ও মুখ ধোয়ার কাজগুলো সারুনতারপর চা-বা কফি পান করুনএবার চাইলে আপনি পিঠ বাঁকিয়ে বা ডানে-বাঁয়ে শরীর টান (স্ট্রেচিং) করে নিন- কোনো সমস্যা নেই
৮. চাপ অনুভূত হওয়ার পরেও মূত্রত্যাগে অহেতুক বিলম্ব করবেন না প্রস্রাবের বেগ দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখলে আপনার মূত্রথলির জন্য তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেবেতাই চাপ অনুভূত হওয়ার পর তা থেকে মুক্ত হতে অহেতুক বিলম্ব করবেন নাচেষ্টা করুন মূত্রথলির জন্য অস্বস্তিকর অতিরিক্ত মশলাদার খাদ্য, চকোলেট, মদ, কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত পানীয় (কার্বোনেটেড বেভারেজ), ক্যাফেইযুক্ত পানীয় (চা-কফি) বর্জন করে চলতে
৯. আপনার ঝোলা ব্যাগ (সাইড ব্যাগ), হ্যান্ডব্যাগ বা ল্যাপটপবাহী ব্যাগটি প্রতিদিন একই দিকের কাঁধে বহন করা থেকে বিরত থাকুনএর ফলে কাঁধ, পিঠ বা হাত ব্যথার শিকার হতে পারেন আপনিতাই হাঁটাচলার ক্ষেত্রে কাঁধ বা হাতে ঝোলানো ব্যাগটি ডান-বাম ও সামনে পেছনে স্থান পরিবর্তন করে নিন নির্দিষ্ট সময় পরপরএর ফলে অহেতুক কাঁধ-হাত-পিট ব্যথার কষ্ট থেকে রেহাই মিলবে
১০.  ধূমপান এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর  যারা ধূমপান করেন, তাদের জন্য উপদেশই বলুন আর স পরামর্শই বলুন, ‘এই মুহূর্তে ধূমপান ত্যাগ করুনকথাটি অনেক পুরনো হয়ে গেছেতারপরেও পুরনো সেই অনুরোধ আবারও : প্লিজ, ধূমপান ছেড়ে দিনকারণ এটি স্বাস্থ্যের জন্য সবদিক দিয়েই ক্ষতিকরতবে এর বাইরে ধূমপায়ীদের দুটি গ্রুপ আছেন যারা নিজেদের বিরুদ্ধে এই ক্ষতিকর কাজটিও আরও মারাত্মক করে তোলেনএদের একটি পক্ষ শুয়ে শুয়ে ধূমপান করেন আর অপরটি সকালে বিছানা ছেড়েই খালি পেটে সিগারেট ধরানকারণ সাধারণভাবে ধূমপান করার চেয়ে এই কায়দার ধূমপায়ীরা অনেক বেশি ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে দেখা দিতে পারে ১৪টি মারাত্মক সমস্যা



দৈনন্দিন কাজের চাপের কারণে আমাদের দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করতে হয়আর যারা আইটি সম্পর্কিত কাজ করেন কিংবা যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের সাথে জড়িত, তাদেরতো ঘন্টার ঘন্টা বসে থাকতে হয়, সারাদিনই হয়তো কেটে যায়, পিসির সামনেএর ফলে বেশকিছু ভয়ঙ্কর সমস্যা দেহে বাসা বাঁধতে থাকেবিশেষজ্ঞরা গবেষণায় দেখেছেন, বহু সময় চেয়ারে বসে পার করে দেওয়ার কারণে আমাদের চৌদ্দ রকমের জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারেএ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো


১. অল্প শক্তিক্ষয়

দীর্ঘক্ষণ টেবিলে বসে কাটানোতে শারীরিক কাজ কম হয়এতে শক্তির ক্ষয় হয় নাফলে অলসতা অভ্যাসে পরিণত হয়

২. ধীর বিপাক প্রক্রিয়া

দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে কাটানোয় ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯৭ জন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে, এক গবেষণায় দেখা গেছেদৈহিক স্থিরতার কারণে পেশীর গঠন ধীর হয় এবং মেদ ঝরার কাজটি গতিহীন হয়ে পড়েএতে রক্তপ্রবাহ থেকে ফ্যাট বের হয় না এবং এতে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়

৩. সংকটাপন্ন অঙ্গ সঞ্চালন

বসে থাকার কারণে শ্রোণীচক্র পেছনদিকে ঘোরার প্রবণতা লাভ করে এবং এতে কটিদেশীয় ডিস্কে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেবসে থাকলে ঘাড় সামনের দিকে ঝুঁকে থাকে যা দেহের ভারসাম্য রক্ষায় দেহের বিভিন্ন অংশে ওজনের ভাগবাটোয়ারায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়

৪. মেটাবোলিক সিনড্রোম

দিনের পর দিন শক্তিক্ষয় না করার কারণে দেহে স্থূলতা, বিপাক প্রক্রিয়ায় সমস্যা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি দেখা দেয়

৫. পিঠের এবং মেরুদণ্ডে আঘাত

অনেক সময় ধরে বসে থাকায় টিস্যুর স্থিতিশীল অবস্থান নষ্ট করে দেয়এতে পিঠ-কাঁধ এবং মেরুদণ্ডের পেশী ও হাড়ের সংযোগস্থলের ওপর চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকেএর ফলে ওই সকল পেশীতে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়

৬. সামাজিক দক্ষতা হ্রাস

এর একটি ভিন্নমাত্রার প্রভাব রয়েছেডেস্কে বহু সময়ের ব্যয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যোগাযোগের আগ্রহ কমিয়ে দেয়ফলে সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানুষের সমাজসংশ্লিষ্ট দক্ষতা কমতে থাকে

৭. একাকীত্ব ও বিষণ্নতা

কম্পিউটার যখন আপনার একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম হয়ে দেখা দেয়, তখন চেনা-পরিচিত মহলের গণ্ডি ছোট হয়ে আসেএতে একাকীত্ব বোধে আক্রান্ত হয় মানুষ এবং পরিণামে বিষণ্নতা ভর করেবাইরে বেরোনোর এবং সূর্যের আলো উপভোগের অভাবে ভিটামিন ডি এর স্বল্পতা দেখা দেয় যা বিষণ্নতার কারণ ঘটায়

৮. ক্রনিক ব্যাথা

দীর্ঘদিন ধরে অনেক সময় চেয়ারে বসে কাটানোর ফলে মেরুদণ্ডের ব্যাথা বা কাঁধ ও পিঠের ব্যাথা জেঁকে বসেএ সময় তা ক্রনিক ব্যাথায় পরিণত হয়

৯. বাতরোগ

আরথ্রাইটিসের মতো বাতরোগ দেখা দিতে পারে বসে বসে সময় কাটালে

১০. স্থূলতা

অতিরিক্ত সময় বসে থাকায় কম শক্তিক্ষয়ের কারণে দেহের বড় ধরনের পেশীগুলো কার্যহীন থাকেএক সময় দেহের মেদ বেড়ে যায় এবং স্থূলতা দেখা দেয়

১১. ডায়াবেটিস

বেশিক্ষণ বসে থাকলে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারায় দেহ সেইসঙ্গে ইনসুলিন হরমোনের স্পর্শকারত পরিবর্তন আনেএটি রক্তে গ্লুকোজ পৌঁছে দেয় তা শক্তি উপাদন করে

১২. ক্যান্সার

অতি সামান্য শারীরিক কাজের কারণে ক্যান্সার হওয়ার যেসব প্রভাবক রয়েছে তাদের কার্যকর হওয়ার সুযোগ বেড়ে যায়এ গবেষণায় দেখা যায়, মেয়েদের অলস বসে থাকার কারণে স্তন্য, কর্পাস ইউটারি এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়

১৩. হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে ৬৪ শতাংশ

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকার কারণে হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়েবিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকির মাত্রা ৬৪ শতাংশ বেড়ে যায়

১৪. মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের মৃত্যুর পেছনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা দায়ীনারী-পুরুষের বয়স, ওজন, স্বাস্থ্যের নানা স্তরে শারীরিক কাজের অভাবে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তা তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়
নিচের একটি ছবি সবার সাথে শেয়ার করছিএখান থেকে একপলকে সব সমস্যাগুলোর বিষয়ে জানতে পারবেন


সূত্রঃ ডাঃ  মামুন
বারবার একই তেল দিয়ে কিছু ভাজা কেন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

বারবার একই তেল দিয়ে কিছু ভাজা কেন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?



যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি তা আমাদের নিত্যদিনের অনুষঙ্গ অর্থা একই তেলে বার বার ভাজা এটা সারাবছর ধরে হোটেল-রেস্তোরায় চলে কিন্তু এর ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক প্রথমেই আমাদের জানা দরকার একই তেল বার বার উত্তপ্ত করলে করলে তেলের কী কী পরিবর্তন হয়-

তেলের এসিডিটি বেড়ে যায়ঃ

একই তেলে বার বার ভাজলে সে তেলে ফ্রী ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়ফ্রী ফ্যাটি এসিড যেহেতু নিজে একটা এসিড তাই তেলে এর পরিমাণ বাড়লে তেলের এসিডিটিও বেড়ে যায়আয়োডিন ভ্যালু,পারঅক্সাইড ভ্যালু ও কার্বোনিল ভ্যালু এগুলো তেলের ফ্রী ফ্যাটি এসিডের মাত্রা নির্দেশকনীচে পাম তেলকে বার বার হিট দিলে এসব ভ্যালু নির্দেশকের কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে তার একটি তালিকা উপস্থাপন করা হলোঃ


অটোঅক্সিডেশনঃফী ফ্যাটি এসিড অক্সিজেনের উপস্থিতিতে খুব সহজেই বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে সর্বনাশা ফ্রী রেডিক্যাল তৈরী করেফ্রী রেডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব দেহের সর্বত্রই বিশেষতঃ ভাইটাল অর্গান যেমন লিভার,হার্ট ও কিডনীর উপর সুস্পষ্ট দৃশ্যমানআমরা যে ধীরে ধীরে বুড়ো হয়ে যাচ্ছি তার পেছনে রয়েছে এ শত্রুটিআমরা অনেকেই এন্টি-অক্সিডেন্ট শব্দটার সাথে পরিচিতঅনেকেই সুস্বাস্থ্যের জন্য ও যৌবন ধরে রাখতে এন্টি-অক্সিডেন্ট ভিটামিন (যেমন Tab.REX) বা এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন-অাপেল (আপেল নিয়ে একটা প্রবাদই আছে-An apple a day keeps the doctor away) গ্রহণ করে থাকিএকই তেল বার বার ভাজার কাজে ব্যবহার করলে তাতে প্রচুর পরিমাণে ফ্রী রেডিক্যাল তৈরী হয় যা আমাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটায়আপনাদের অবগতির জন্য ইঁদুরের হার্ট,কিডনী ও লিভারের উপর এরকম তেল ভক্ষণের কী মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছিল তার হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল প্লেট উপস্থাপন করা হলো (Nitte University Journal of Health Science,NUJHS Vol. I, No.4, December 2011,
ISSN 2249-7110 থেকে প্রাপ্ত )-
ট্রান্স ফ্যাটঃতেলকে বার বার হিট দিলে এর সম্পৃক্ত চর্বি ভেঙ্গে ফ্রী ফ্যাটি এসিডে রূপান্তরকালে ট্রান্স ফ্যাট তৈরী হয়এই ট্যান্স ফ্যাট শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর
এইচ.এন.ইঃ HNE (4-hydroxy-trans-2-nonenal) একটি মারাত্মক বিষএকই তেলকে বার বার হিট দিলে তাতে HNE তৈরী হয়
দূষণঃ ভাজা তেলে অনেক খাদ্যকণা থাকে যার উপর বিভিন্ন ব্যকটেরিয়া ও মোল্ডের সংক্রমণ হয় এবং তাদের নিঃসৃত তাপ প্রতিরোধী টক্সিন তেলে মিশে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর

এরূপ তেলের ক্ষতিকর দিকগুলো কী কী?

গ্যাট্রিকের সমস্যাঃযেহেতু বার বার হিট দেওয়া তেলের এসিডিটির মাত্রা বেশী তাই এ তেল বা এ তেলে ভাজা খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই বুক জ্বালাপোড়া,পেটে ব্যাথা,ডায়রিয়া হতে পারে এবং যাদের পেপটিক আলসার জনিত সমস্যা আছে তা বেড়ে যেতে পারেযারা নিয়মিত হোটেলে খাবার খেয়ে থাকেন তারা প্রায়ই এধরণের সমস্যার মুখোমুখি হনএকারণে ইফতারির শুরুটা ভাজা খাবার দিয়ে শুরু না করাটাই স্বাস্থ্যসম্মতসবচেয়ে ভাল হয় সিদ্ধ খাবার দিয়ে ইফতারি করা
ফ্রী রেডিক্যালজনিত ক্ষতিঃশরীরের এমন কোন কোষ নাই যার উপর ফ্রী রেডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব নেইএটা শুধু প্রদাহই করে না কোষকে মেরেও ফেলেএর সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায় রক্তনালী ও হৃদপিন্ডে,লিভারে,কিডনীতে এবং ব্রেনেফ্রী রেডিক্যালের জন্য আমাদের ত্বকও স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে জড়জড় হতে থাকে যা আমরা রিংকেল বা বলিরেখা হিসাবে দেখে থাকিএই বলিরেখার জন্যই আমাদেরকে বয়স্ক দেখায়সুতরাং যারা তারুণ্য ধরে রাখার সংগ্রামে লিপ্ত তাদের জন্যও এটা সর্বনাশী
ট্র্যান্স ফ্যাটজনিত ক্ষতিঃট্যান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে সৃষ্ট হৃদরোগে (coronary heart disease) খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯৯৪ সালে মারা গেছেন ৩০,০০০ জন মানুষ এবং ২০০৬ সালে ধারণাভিত্তিক ১,০০,০০০ জন মানুষএছাড়াও ট্র্যান্স ফ্যাটের কারণে আরও যে রোগগুলো হতে পারে সেগুলো হলো-ক্যান্সার,টাইপ-২ ডায়াবেটিস,স্থুলতা,অ্যালজেইমারস ডিজিজ,লিভারের সমস্যা,বন্ধ্যাত্ব,বিষন্নতা,অস্থির ও আক্রমণাত্মক আচরণ ইত্যাদি
এইচ.এন.ই জনিত ক্ষতিঃএই বিষ খাদ্য থেকে অতি দ্রুত শোষিত হয়ে আমাদের রক্তে চলে যায় এবং ডি.এন.এ, আর এন.এ ও অন্যন্য কার্যকরী প্রোটিনের সাথে রিঅ্যাক্ট করে নানা রোগ তৈরী করে যার মধ্যে আছে ক্যান্সার,অালজেইমারস ডিজিজ,পারকিনসন্স ডিজিজ ও হান্টিংটনস ডিজিজ এবং লিভারের নানা অসুখ
কোলেষ্টেরল বাড়ায়ঃনিয়মিত এরূপ তেল ভক্ষণ করলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেষ্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়আমরা সবাই জানি বাড়তি কোলেস্টেরল স্বাস্থ্যের জন্য কত ক্ষতিকরনীচে ইঁদুরের উপর চালানো এক পরীক্ষায় যে তথ্য পাওয়া গেছে তা উপস্থাপন করা হলো (Nitte University Journal of Health Science,NUJHS Vol. I, No.4, December 2011,
ISSN 2249-7110 থেকে প্রাপ্ত )-


আশা করি বুঝতে পেরেছেন ভাজার কাজে ব্যবহৃত একই তেলকে বার বার ব্যবহার করলে তার তাক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যহানি কত মারাত্মক হতে পারেআমরা এ ব্যাপারে নিজেরা সচেতন হই ও অন্যদেরকেও সচেতন করে তুলি এবং বাইরের ভাজা খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলি
ফরমালিন কি? এর ক্ষতিকর দিক এবং মুক্ত থাকার উপায়

ফরমালিন কি? এর ক্ষতিকর দিক এবং মুক্ত থাকার উপায়



বর্তমান যুগে আমরা প্রায়শঃ ফরমালিনের কথা শুনিএটা নিয়ে অনেক আতংকিতকেউ জেনে আতংকিত, কেউ না জেনে আতংকিতআজকে এ ফরমালিন বিষয়ে বিস্তারিত সবাইকে জানাবোযারা অল্প জানেন কিংবা যারা কিছুই জানেননা, তাদের সবার জন্য পোস্টটি অনেক কাজে লাগবে আশা করি

ফরমালিন কি?

ফর্মালিন (-CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের (CH2O) পলিমারফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মত জলে সহজেই দ্রবনীয়শতকরা ৩০-৪০ ভাগ ফর্মালিনের জলীয় দ্রবনকে ফর্মালিন হিসাবে ধরা হয়ফর্মালিন সাধারনত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকরলিভার বা যকৃতে মিথানল এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রথমে ফরমালডিহাইড এবং পরে ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর

ফরমালিনের ক্ষতিকর দিক:

  • ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনাকে আক্রান্ত করে রেটিনার কোষ ধ্বংস করেফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে
  • তাক্ষণিকভাবে ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কারবাইডসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে
  • ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুুকে ধ্বংস করে দেয়লিভার ও কিডনি অকেজো হয়ে যায়হার্টকে দুর্বল করে দেয়স্মৃতিশক্তি কমে যায়
  • ফরমালিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার হতে পারেঅস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারেএতে মৃত্যু অনিবার্য
  • মানবদেহে ফরমালিন ফরমালডিহাইড ফরমিক এসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে
  • ফরমালিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল সামগ্রী সব বয়সী মানুষের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণতবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রেফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছেকিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররাশিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমছে
  • গর্ভবতী মেয়েদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছেসন্তান প্রসবের সময় জটিলতা, বাচ্চার জন্মগত দোষত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হতে পারে
  • এ ধরনের খাদ্য খেয়ে অনেকে আগের তুলনায় এখন কিডনি, লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের সমস্যায় ভুগছেনদেখা যাচ্ছে, কয়েক দিন পরপর একই রোগী ডায়রিয়ায় ভুগছেন, পেটের পীড়া ভালো হচ্ছে না, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন

খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনের উপস্তিতি নানা পরীক্ষার মাধ্যমে করা যায় যেমন-

1) ফরমালডিহাইডের দ্রবণের সঙ্গে ২ সিসি ফিনাইল হাইড্রোজাইন হাইড্রোকোরাইড (১%) এবং ১ সিসি ৫% পটাসিয়াম ফেরিসায়ানাড দিয়ে তারপর ৫ সিসি ঘনীভূত হাইড্রোকোরিক অ্যাসিড মেশালে পুরো দ্রবণ গাঢ় গোলাপী রঙ হয়ে থাকেএকে বলা হয় সেরিভারস্ টেস্ট
2) ফরমালডিহাইডের হালকা দ্রবণ যেমন মাছে ফরমালিন দেয়া আছে তা ধুয়ে তার জলে ১ সিসি সোডিয়াম নাইট্রোপ্রোসাইড মেশালে গাঢ় সবুজ নীল রঙ ধারণ করেএতে ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে
এ সমস্ত কেমিক্যাল এবং রি-এজেন্ট পাওয়া খুব কঠিন এবং দামও অনেক বেশীতাই সহজ এবং সাধারণ একটি পদ্ধতি বের করা যায়যেমন সন্দেহযুক্ত ফরমালিন মাছ ধুয়ে জলে ৩% (ভলিউম) হাইড্রোজেন পারক্সাইড মেশালে ফরমালডিহাইড অক্সিডাইজড হয়ে ফরমিক অ্যাসিডে রূপান্তর হয়ফরমিক এসিড প্রমাণের জন্য সে জলে অল্প মারকিউরিক কোরাইড মেশালে সাদা রঙের তলানি পড়বেতাতেই প্রমাণ হবে ফরমিক অ্যাসিড তথা ফরমালডিহাইড তথা ফরমালিনএখন কথা হচ্ছে খাদ্যদ্রব্যে ফরমালনিরে উপস্তিতি পরীক্ষার উপকরণগুলো সহজলভ্য নয় আর সবচেয়ে বড় কথা, কেনার সময় যদি সাথে করে এসব নিয়ে যেতে হয় তাহলে হয়তো কেনাটাই ছেড়ে দিতে হবে

কিভাবে মাছ থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন?

1) ফরমালিনবিহীন মাছের ফুলকা উজ্জ্বল লাল র্বণ , চোখ ও আঁশ  উজ্জ্বল হয়,শরীরে আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়,মাছের দেহ নরম হয় অন্যদিকে ফরমালিনযুক্ত মাছের ফুলকা ধূসর, চোখ ঘোলাটে ও ফরমালনিরে গন্ধ পাওয়া যায় হয়, আঁশ তুলনামূলক ধূসর র্বণরে হয়, শরীরে আঁশটে গন্ধ কম পাওয়া যায়, দেহ তুলনামূলক শক্ত হয়
2) পরীক্ষায় দেখা গেছে জলে প্রায় ১ ঘন্টা মাছ ভিজিয়ে রাখলে ফর্মালিনের মাত্রা শতকরা ৬১ ভাগ কমে যায়
3) লবনাক্ত জলে ফর্মালিন দেওয়া মাছ ১ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ফর্মালিনের মাত্রা কমে যায়
4) প্রথমে চাল ধোয়া জলে ও পরে সাধারন জলে ফর্মালিন যুক্ত মাছ ধুলে শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ফর্মালিন দূর হয়
5) সবচাইতে ভাল পদ্ধতি হল ভিনেগার ও জলের  মিশ্রনে (জলে ১০ % আয়তন অনুযায়ী) ১৫ মিনিট মাছ ভিজিয়ে রাখলে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ফর্মালিনই দূর হয়

কিভাবে ফল ও সবজি থেকে ফর্মালিনের দূর করবেন?

1) যে ধরনের রাসায়নিক দেয়া হোক না কেন যদি  আমরা একটু সচেতন হই তাহলে ফল খাওয়া সম্ভব আমাদের যা করতে হবে তা হল- খাওয়ার আগে এক ঘণ্টা বা তার চেয়ে একটু বেশী সময় ফলগুলো জলে ডুবিয়ে রাখতে হবে
2) লিচু কাঁচা অবস্থায় সবুজপাকার পর হয় ইটা লালএখন গাছে রাসায়নিক স্প্রে করে যার ফলে লিচু গাঁড় মেজেনটা রং ধারন করে তা বড়ই মনমুগ্ধকর কিন্তু  চকচক করলে সোনা হয় না সেটা মনে রেখে কখনোই গাঁড় মেজেনটা রঙ্গের লিচু কেনা যাবে না
3) সবজি রান্না করার আগে গরম জলে লবণ মিশিয়ে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন
4) বেগুনে এক ধরনের রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করা হয় এই রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার ক্ষতিকর না যদি নিয়মানুসারে দেয়া হয়কিন্তু আমাদের দেশের কৃষকেরা এ ব্যাপারে অজ্ঞতারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন নাপ্রতিটি কীটনাশকের ক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত থাকেযেমন- একটি কীটনাশকের সেলফ লাইফ বা জীবন সীমা ৭দিন, তার মানে কীটনাশকটা ব্যবহারের ৭দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে, যা কীটপতঙ্গের জন্য ক্ষতিকরতাই কৃষকদের উচিত কীটনাশক ব্যবহারের অন্তত ৭দিন পর ফলন তোলাকিন্তু তারা তা না করে ২-১ দিনের মাঝেই ফলন তোলেনফলে কীটনাশকের ক্রিয়া ক্ষমতা  থেকে যায়, যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আমাদের উপরতাই বাজারে সতেজ, উজ্জ্বল বেগুন না কিনে কিছুটা অনুজ্জ্বলপোকায় কিছুটা আক্রান্ত এমন বেগুন কেনাই ভালো
.